৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
পটুয়াখালী জেলা
পটুয়াখালী জেলা

পটুয়াখালী জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় প্রশাসনিক অঞ্চল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদ-নদী, চরাঞ্চল এবং ঐতিহ্যবাহী কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের জন্য জেলাটি দেশব্যাপী পরিচিত।

নামকরণ

পটুয়াখালী নামের উৎপত্তি সম্পর্কে একাধিক মত প্রচলিত রয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, এ অঞ্চলে একসময় পটুয়া সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল এবং তাদের খননকৃত খালকে কেন্দ্র করে ‘পটুয়ার খাল’ নামটি প্রচলিত হয়। কালক্রমে তা রূপান্তরিত হয়ে পটুয়াখালী নামে পরিচিতি লাভ করে।

অবস্থান ও আয়তন

পটুয়াখালী জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-মধ্য উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত।

  • উত্তরে: বরিশাল জেলা
  • দক্ষিণে: বঙ্গোপসাগর
  • পূর্বে: বরগুনা জেলা
  • পশ্চিমে: ভোলা জেলা

মোট আয়তন প্রায় ৩,২২১ বর্গ কিলোমিটার। জেলাটি পায়রা, আন্দারমানিক ও তেঁতুলিয়া নদীবিধৌত একটি বদ্বীপ অঞ্চল।

জনসংখ্যা

মোট জনসংখ্যা: প্রায় ১৬ লক্ষ জন

পুরুষ: প্রায় অর্ধেক

মহিলা: প্রায় অর্ধেক

প্রশাসনিক কাঠামো

পটুয়াখালী জেলায় বর্তমানে ৭টি উপজেলা, একাধিক পৌরসভা ও অসংখ্য ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

  • পটুয়াখালী সদর
  • বাউফল
  • দুমকি
  • দশমিনা
  • কলাপাড়া
  • গলাচিপা
  • মির্জাগঞ্জ
অর্থনীতি

পটুয়াখালীর অর্থনীতি প্রধানত কৃষি ও মৎস্যনির্ভর। ধান, ডাল, তেলবীজ ও শাকসবজি প্রধান কৃষিপণ্য। উপকূলীয় হওয়ায় মাছ ও সামুদ্রিক সম্পদ জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পর্যটন ও ঐতিহ্য

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত পটুয়াখালীর প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। এখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত একই স্থান থেকে দেখা যায়। এছাড়াও রাখাইন সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি, বৌদ্ধ বিহার ও উপকূলীয় জীবনধারা জেলার ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাস

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পটুয়াখালীর মানুষ সাহসিকতার সাথে অংশগ্রহণ করে। বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত যুদ্ধ ও গণহত্যার স্মৃতি আজও জেলার ইতিহাসে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

২০২৫ © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | পটুয়াখালী ইনফো
সার্বিক ব্যবস্থাপনায়: জেলা প্রশাসন, পটুয়াখালী
কারিগরি সহায়তায়: সফ্টএক্স আইটি লিমিটেড